Thursday, October 5, 2017

রোহিঙ্গা শিবির থেকে বলছি- লিখেছেন আবদুস সামাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

রোহিঙ্গা শিবির থেকে বলছি- লিখেছেন আবদুস সামাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট,(৩৪ তম বিসিএস) জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম(বর্তমানে টেকনাফ, উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির এ জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার অধীনে কর্মরত)- তার ফেসবুক প্রোফাইল হতে নেয়া রোহিঙ্গা শিবিরের দিনপঞ্জি-
তারিখঃ ০৪/১০/২০১৭
#রোহিঙ্গা_শিবির_থেকে_বলছি
গৎবাধা নিয়মে চলল গত দুদিন। বলার মত বিশেষ কিছু নাই। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ত্রাণের পরিমাণ অনেকটা নিম্নমুখী। তবে WFP, UNCHR, IOM ইত্যাদি সংস্থা প্রচুর ত্রাণ বিতরণ করছে। ত্রাণ কোন প্রকার ঘাটতি আছে বলা যাবে না। যখন এখানে আসছি তখনকার অবস্থা আর এখনকার অবস্থা আকাশ পাতাল পার্থক্য। নতুন কেউ আসলে তাকে কোনভাবেই বোঝানো সম্ভব হবে না কি অবস্থা এখানে ছিল। গতকাল এক মহিলা আসল, প্রেগন্যান্ট। অবশ্য এদের বেশিরভাগ মহিলাই প্রেগন্যান্ট। সে স্বামী ছাড়াই এসেছে। দুটা বাচ্চাও আছে। এখানে এসে এক পুরানো রোহিঙ্গার সাথে উঠেছে। তাই ত্রাণের টোকেন পায় নাই। অসহায় ভঙ্গিতে দাড়িয়ে ছিল, অন্যদের মত কান্নাকাটি করছিল না। টোকেন ছাড়াই কিছু খাবার দিলাম, আর ঘর তোলার জন্য কিছু টাকা। এদের ঘর বলতে পলিথিন আর বাশ, সাথে ত্রিপল। পর্যায়ক্রমে সবার জন্যই IOM এর মাধ্যমে ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। গতকাল থেকে বান্দরবনে থাকা রোহিঙ্গাদের উখিয়া কুতুপালং -বালুখালি স্থানান্তর শুরু হয়েছে। সবাইকেই এখানে নিয়ে আসা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীতাকুন্ড স্যার এখানকার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি ক্যামেরা পাঠিয়েছেন। স্যারকে ধন্যবাদ দেয়া বোকামি হবে। তিনি সবার জন্যই এমন করে। বিশেষত আমাদের জুনিয়রদের আবদার, অভাব, অভিযোগ দাখিলের অন্যতম জায়গা। এখানকার বাস্তব অবস্থার কিছু চিত্র যদি ধরে রাখা যায়, তাই হবে স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
গতকাল সন্ধ্যায় কক্সবাজার যাই ক্যামেরা আনতে। রাতে যদিও কক্সবাজার সদর ইউএনও স্যার থাকার ব্যবস্থা করে দেন, কিন্তু জোছনা রাতে মেরিন ড্রাইভের জার্নির লোভে চলে আসি উখিয়া।
আজ সকালে এক ফরাসি ভদ্রলোক তার স্ত্রীসহ আসেন ত্রাণ নিয়ে। এক এক প্যাকেজে প্রায় ৪০ কেজি। এত বড় প্যাকেজ এর আগে পাইনি। এই লোক ইংরেজি মোটেই পারে না। অঙ্গভঙ্গি দিয়েই কাজ চালাতে চায়।
রোহিঙ্গাদের জন্য বিনা খরচে বা কম খরচে কথা বলার জন্য টেলিটক কিছু বুথ করেছে। রোহিঙ্গারা এখান থেকে কথা বলতে পারবে তাদের প্রিয়জনদের সাথে। যাদের কাছে টাকা আছে তারা টাকা দিবেন, আর টাকা না থাকলে দেয়া লাগবে না। আমার ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টের পাশেই একটা আছে। মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আজ এখানে ভিজিট করেন।
দিনে কিছু সময় ক্যাম্পে ঘুরে বেড়ালাম ক্যামেরার সদ্বব্যবহারের জন্য। কখনো সুযোগ হলে ছবিগুলো শেয়ার করব।






No comments:

Post a Comment