Tuesday, October 3, 2017

রসনা বিলাসে ইলিশঃ রক্ষায় আছেন ক্যাডার অফিসাররা

সারা দেশে চলছে ইলিশ রক্ষার জন্য ইলিশ মাছ ধরা ও বিপনন বিরোধী ২২ দিনের কর্মসূচী যা গত ০১ অক্টোবর ২০১৭ হতে শুরু হয়ে চলবে ২২ অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত। এই বছর উক্ত সময়ে ইলিশ মাছ ধরলে বা বিপননের সাথে যুক্ত হলে কপালে জুটবে ১ বা ২ বছরের জেল বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

মা ইলিশ রক্ষা ও প্রজননের সময় জেলেদের মাছ ধরা হতে বিরত রাখতে সরকারি এ কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ অবদান রেখে চলেছেন ক্যাডার অফিসার রা। ফিশারিজ অফিসার এবং প্রশাসন ক্যাডার এর সহকারী কমিশনার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দের ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন লেখনীতে মা ইলিশ রক্ষায় সারাদেশ ব্যাপী কর্মসূচির ব্যাপারে জানা যায়। জিআই পন্য ইলিশ রক্ষায় ক্যাডার অফিসারদের এই ভূমিকায় দেশে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা যায়।

ইলিশ মাছের প্রধান প্রজনন সময় আশ্বিন মাশের প্রথম উদিত চাঁদের সময় হতে শুরু হয়।এই সময় প্রতিটি মা ইলিশ একবারে প্রায় ২০-২২ লক্ষ ডিম ছাড়ে। ২০১১ সালে মৎস্য সংরক্ষন আইন সংশোধন করে ইলিশের এই প্রজনন মৌসুম নির্দিষ্ট করা হয় এবং এর পর প্রতি বছর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রা ভূমিকা রেখে চলেছেন।

গৌড়নদী, বরিশাল এর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন-
হাইওয়েতে রাতের অভিযানে. কোন ছাড় দেয়া হবে না। দেশের সম্পদ ও জিআই পন্য "ইলিশ" রক্ষা করতে হবে যে কোন মূল্যেই।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন এর সহকারী কমিশনার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ (৩৪ তম বিসিএস) তার ফেসবুক ওয়ালে ০১ অক্টোবর এ লিখেন,
আজ ভোর ছয়টা থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার এবং কোল্ড স্টোরেজে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে কোথাও ইলিশ মাছ পাওয়া যায় নি। শুধুমাত্র কাজীর দেওড়ি বাজারে একটি দোকান থেকে ১৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। আসুন মা ইলিশ রক্ষায় আমরা আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ বর্জন করি।"


মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন মৎস্য আড়ত, বাজার, রাস্তায় এমনকি নদীতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে ইদানিং। ইলিশ রক্ষার এ অভিযানে পুরুষ ক্যাডার অফিসারদের পাশাপাশি নারী ক্যাডার অফিসার রাও রাখছেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।


চাঁদপুরের ইলিশ জগৎবিখ্যাত। এই চাঁদপুরের ইলিশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং প্রশাসন এর সহকারী কমিশনার/নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট রা। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন সুলতানা তার ফেসবুক ওয়ালে ২ অক্টোবর লিখেন-
বিক্রেতাদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, বাজার ঘুরে কোন ইলিশ বিক্রয় করতে দেখা যায়নি
সাথে তিনি কিছু ছবিও পোস্ট করেন যাতে নৌ পুলিশ , মৎস্য কর্মকর্তা সহ তাকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনারত অবস্থায় দেখা যায়।

ঊপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন-
অদ্য ০৩/১০/২০১৭ মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে আনুমানিক ৫০ হাজার বর্গমিটার জাল, ৬০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। ৪ জন আটক এবং ২০০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।জব্দকৃত জাল বিনষ্ট এবং মাছ এতিমখানায় বিতরন করা হয়।

আমাদের আশা ইলিশ এর উৎপাদন বাড়তে থাকুক। দেশের আমিষের চাহিদার ১২ শতাংশ পূরণ , জিডিপি এর ১ শতাংশ এর বেশি থাকার পাশাপাশি ক্যাডার অফিসারদের এমন প্রচেষ্টায় ইলিশ হয়ে উঠুক বাঙ্গালীর রসনা বিলাসের নিত্য অনুষঙ্গ।

No comments:

Post a Comment